মা এবার বাড়ী যেয়ে তোমার সাথে বেশি সময় দিতে পারিনি। আমি কানাডা থেকে বাংলাদেশে আসছি শুনে নিশ্চয়ই তুমি অনেক খুশি হয়েছিলে। আমার বাংলাদেশে আসাটা ছিল তোমাকে দেখার জন্য নয় । আমি এসে ছিলাম আমার একমাত্র কন্যাকে বিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে।
দাড়াও! একটু দাড়াও!! আমার বিছানার পাশের টেবিল লাইটটা নিবিয়ে আসি। মা, এখানে এখন রাত দুইটা। আমার বিছানায় শুয়ে আছে আমার স্ত্রী রোজ। যাকে নিয়েই আমার এত কষ্ট।আমার এত কিছু। আমি যখন কম্পিউটারের কিবোর্ড এ কাহিনীগুলো লিখছি তখন আমার ছেলে মেয়ে আর তোমাদের বৌমা অঘোরে ঘুমচ্ছে।তারা ঘুমাক তাদের না জানিয়েই আমি লেখে যেতে চাই আমার কাহিনীগুলো।
দেশে আসার দিনই আমি ওকে বলেছিলাম। চল আমাদের বাড়ী যাই। না, তার এক কথা প্রথমে ওদের বাড়ী যেতে হবে। কি আর করব। তার ভাইয়ের উত্তরার বাড়ীতেই আমাদের উঠতে হল। সেইদিন দুপুরেই আমরা চলে গেলাম আমার ছেলেমেয়ের নানা বাড়ী।অনেক দিন পর বাংলাদেশে আসার কারনে তুমি মনে করেছিলে আমি সবার আগে তোমার কাছেই যাব। কিন্তু আমি পারলাম না মা। শুধু ওদের মামার মোবাইল থেকে তোমার সাথে কথা হল। আমার কথাগুলো খুবই সংক্ষিপ্ত ছিল। নিশ্চয়ই তুমি বুঝতে পারছিলে আমার পাশে আমার প্রাণের প্রিয়তমা রয়েছে। হায়রে দুনিয়া! ছেলে তার মায়ের কাছ থেকে পৃথক হয় তাও আবার এই ভাবে। মা, তুমি অসুস্থ ছিলে এটা আমি জানতাম। আমি বুঝতে পারছিলাম তোমার সাথে এটাই আমার শেষ দেখা । তোমাকে সারাজীবন তো আর সময় দিতে পারিনি। শেষ সময়টুকু তোমার পাশে থাকব এটাই ছিল আমার সুপ্ত ইচ্ছা।
জান মা, বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় আমাদের এখানে মুসলিম কমিউনিটির বড় মসজিদটির উদ্বোধন হয়েছে। আমি বাংলাদেশে থাকার কারনে আমার অবর্তমানেই উদ্বোধন করতে হল।
আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাইছিলাম সেই প্রথম দিন থেকেই। দীর্ঘ চারদিন পর তোমার সাথে দেখা করার অনুমতি মিলল। একজন প্রবাসী হিসাবে আমি আমার পরিবার নিয়ে প্রাইভেট কার যোগে যাবে এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু আমার প্রিয়তমা সেটা হতে দিল না। তার একটাই কথা, এত দুরের রাস্তা যেতে হবে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এ। বাংলাদেশের নরমাল বাসে করেই আমি গেলাম আমার ছেলেমেয়েদের নিয়ে। আমাকে, আমার ছেলেমেয়ে কে দেখে তুমি যে কি পরিমান খুশি হয়েছিলে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই সময় তুমি ছিলে শয্যাশায়ী। সেই অবস্থায় তুমি আমাকে দোয়া করলে। তুমি এতই অসুস্থ ছিলে যে, আমাদের সাথে কথা বলতেও তোমার কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু গতবার তোমাকে যখন দেখেছি তখনও ছিলে কতটুকু স্বাভাবিক। তুমি হেসে হেসে আমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলে। কিন্তু আজ, তুমি পারলে না।
মা, তোমার মনে আছে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়া অবস্থার কথা। সেই সময়গুলোতেও আমি সারাক্ষন পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। খুব কমই বাড়ী আসতে পারতাম। যখনই বাড়ী আসতাম তখন তুমি তোমার সাধ্যমত আমার পছন্দের রান্নাগুলো করার চেষ্টা করতে। টিউশনি করেই আমাকে চলতে হত। পড়াশুনা আর টিউশনির ফাঁকে যখনই সময় পেতাম তখনই আমি তোমার কাছে ছুটে যেতাম। আমার মাস্টার্সের রেজাল্ট এর পর আমি জানি মা তুমি অনেক অনেক খুশি হয়েছিলে। আমি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড এর টিচার হয়েছিলাম। মা, এই টিচার হওয়াই কি আমার জন্য কাল হল?
মা, তোমার কাছে দুই দিন থাকার পরই আমাদের ফিরতে হল উত্তরার সেই বাসাতে। আমি নিজ দেশেই পরবাসী হয়ে গেলাম। ওর এককথা তোমাকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে মেয়ের বিয়ের জন্য। মায়ের সেবা করার জন্য নয়। আমি আমার একমাত্র কন্যার বিয়ের জন্য আমার পরিচিতদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে লাগলাম। জান মা, আমি এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে গেলাম। আমাকে ও এই অসুস্থতার মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় পাঠাত। আমার পুরানো বন্ধু বান্ধব থেকে শুরু করে ইউনির কলিগদের কাছে গিয়ে একটা পাত্রের জন্য বলতে লাগলাম। কিন্তু কোথাও থেকে সাড়া পাচ্ছিলাম না। এর মধ্যে তুমি বার বার আমাকে দেখা করতে বলছিলে ।আমি ওকে এটা বলতেই ওর কথা আগে মেয়ের বিয়ে তারপর অন্য কিছু। কি করব, কান্না ছাড়া অন্য কিছুই আমার করার ছিল না।
মা, তোমার মনে আছে যেইদিন আমি রোজ কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম? সেইদিন এটাকে তুমি ভাল চোখে নিতে পারোনি। আমি তোমাদের অগ্রাহ্য করেই বড়লোক হওয়ার আশায় বড় পরিবারে বিয়ে করলাম। আমার বড় হওয়ার আশা আজ আমাকেই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। মা, আমি তো আমার জীবনের শেষ দিনগুলো বাংলাদেশের মাটিতে কাটাতে চেয়েছিলাম। রোজ এর কারনে আমি আজ কানাডার সিটিজেন । অনেক কিছুই আমি পেয়েছি। কিন্তু সবুজ মাঠ এর ধানের ক্ষেত আমি এখানে পাইনি । আমি সহজ সরল ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় এর পড়াশুনা আর অন্য কোন কিছুর দিকে মনোযোগ দেয়ার সময় ছিল না আমার।
মা, অবশেষে আমরা আমার মেয়ের জামাই পেয়ে গেলাম। ঢাকার এক চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এ ওর সাথে আমাদের প্রথম দেখা হয়। মা, ছেলেটি ছিল আমার মত । একে বারেই সহজ সরল। টুকটাক কথা বলেই আমাদের ছেলেটিকে পছন্দ হল। এই ছেলে পেয়ে তো রোজ খুশিতে আদখান। আমার মেয়ের সাথে ছেলেটির কথা বলার ডেট ঠিক করলাম। এলিফ্যান্ট রোড এর একটি চাইনিজে ওরা বসল। কিন্তু না, ছেলে তো আমার মেয়ের সাথে কথা বলে বেকে বসল। যাও একটি ছেলে পেলাম সে আবার বেকে বসল। এই দিকে তোমার কাছে যাওয়ার জন্য আমি ব্যাকুল হয়ে গেলাম। এবার ছেলেটির সাথে কথা বলার দায়িত্ব দেয়া হল ওদের মামাকে। তিনি সেই পরিবারের সাথে কথা বললেন। হা, আমাদের তাড়াতাড়ি দেখে, বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখে তারা রাজি হলেন। যেদিন আমি, ওদের মামা এবং আমার ছেলে মিলে ওদের বাড়ী গেলাম সেদিন যাওয়ার সময় আমি দেখে গেলাম আমার মেয়ে কম্পিউটারে কি যেন লেখছে। আমি শুধু এই টুকুই বল্লাম, আমরা বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে ভালটাই নিয়ে যাব।
জান মা, আমার মেয়ের জন্য অনেক অনেক পাত্র খুজেছি। কানাডা, এমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, লন্ডন কোথাও আমরা ওর জোড়া মিলাতে পারিনি। এবার কার ছেলেটির সাথে আমি বেশি কথা না বল্লেও আমার ছেলে ও ছেলের মামা কথা বলেছে। তারা যেকোন মূল্যে এই রকম সহজ সরল ছেলেকে চায়। আমার মত করে যাতে তাকে ডমিস্টিক করে রাখতে পারে। মা, আমি মনে করেছিলাম, আমার মেয়ে অনতত আমার মত হবে। নিজেকে সৎ হিসাবে উপস্থাপন করবে । তার যে চাওয়া পাওয়াগুলো সব সে তার হবু বর এর কাছে বলবে। কিন্তু মেয়েটিও তা পারেনি। অনেক কথা কাটাকাটির পর আমরা আমার মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করলাম। তাও আবার এক সপ্তাহ পর। এর মধ্যে যা কিছু করার সবই করতে হবে। সব আত্মীয় স্বজনকে দাওয়াত দেয়া। বিয়ের কেনাকাটা কত কি কাজ? তোমার সাথে দেখা করার ছুটি তো আমি পাচ্ছি না।
বিয়ের দিন । হা, আমার মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলাম। আমার মত সহজ সরল একটা ছেলের সাথেই আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দিলাম। রোজ এতে যে কি পরিমান খুশি হয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিয়ের পরের দিনই আমার ছুটি । আমি ছুটি পেয়েও গেলাম। তোমার কাছে এসে দেখি তোমার অবস্থা আগের চেয়ে অনেক খারাপ হয়েছে। তুমি আগের মত একটু আধটু কথাও বলতে পারছিলে না। শুধু হাতে ইশারায় আমাকে কাছে টেনে নিয়ে চুমু খাচ্ছিলে। আমি তোমাকে ঢাকা নিয়ে আসব সেটা করারও সময় নাই। কিই বা করতে পারি আমি। আজ যদি রোজ এর মা অসুস্থ থাকতো তাহলে সে ঠিকই বড় কোন হসপিটালে তার মাকে ভর্তি করত। কিন্তু আমি তোমার পাশে বসে বসে গুলোকোজ এর পানি ছাড়া আর কিছুই দিতে পারছি না। মা, তুমি হাতের ইশারায় আমার মেয়েকে আর তার জামাইকে দেখতে চাইলে। পরদিন সকালে ওদেরকে আমি নিয়ে আসলাম আমার বাড়ীতে। তুমি আমার মেয়েকে দেখলে তার সাথে সাথে দেখলে আমার মেয়ের জামাইকে। তুমি তাকে জড়িয়ে ধরলে। ধরার পাশাপাশি তোমার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছিল। তুমি বুঝতে পারছিলে তোমার মত আরেক মায়ের বুক খালি হচ্ছে। হায়রে দুনিয়া, এভাবেই কি দিনের পর দিন মায়ে রা তাদের সন্তানদের হারাবে!
তোমার অন্তীম সময়গুলোতে আমি তোমার কাছেই ছিলাম। কালেমা পড়ছিলাম আমি। তুমি শুধু চেয়েছিলাম। হয়ত আমার মিষ্টি মুখের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আমার ছোট বেলার কথাগুলোই ভাবছিলে। মা, তুমি চলে গেলে আমাকে ছেড়ে। আমার আত্মার সম্পূর্ণ আবেগকে উজার করে আমি কেদে উঠলাম।মা, আমি তোমাকে ভাল কিছু দেখিয়ে বিদায় দিতে পারিনি। আমার মত অযোগ্য ছেলে যেন কোন মাই পেটে না ধরে। শুধু দুনিয়ার লোভে পড়ে কোন ছেলে যেন বিয়ে না করে।
মা, আজও আমি ঠিক হতে পারিনি। বাসায় বেশিক্ষন থাকতে পারি না। আমার মেয়ে তার স্বামীর জন্য ছল ছল করে চেয়ে থাকে । আমি তার চোখে তোমার কান্নাগুলো দেখতে পাই। আমি সেই মসজিদে বসে বসে তোমার জন্যই দোয়া করি। রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা...
[এই গল্পটা একান্তই আমার কল্পনার। এর সাথে কারো জীবনের কোন অংশের মিল থাকতেও পারে। কেউ এতে দু:খ পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। ]
Friday, March 20, 2009
Thursday, January 29, 2009
কি আশ্চর্য!
ভাইয়া আমার ইউনি যেতে ভাল লাগে না। কেন? আমার বান্ধবীদের পছন্দ হয় না। কেন? তারা খুব স্বার্থবাদী । সারাক্ষণ পড়াশুনা আর পড়াশুনা। পড়াশুনার বাইরে যে একটা দুনিয়া আছে তারা বুঝতেই চায় না। তাতে তোমার কি? আমার বন্ধুরা আমার সাথে মিলে না। এসব কারণেই আমার বোন মাঝে মাঝে ইউনি যাওয়া মিস করে।
কিছু দিন আগে ওরা যাবে সার্ক ট্যুরে ।ভাইয়া আমাকে একটা স্পন্সর মেনেজ করে দাও না। আমি স্পন্সর পাব কোথায়? স্পন্সর না হলে তো যাওয়া যাবে না। তুমি তোমার বন্ধুদের বলে দেখ না, কি করা যায়? আমি আমার চেষ্টা করে গেলাম। কিন্তু স্পন্সর ম্যানেজ করতে পারলাম না। ওকে পাসপোর্ট করতে বল্লাম। কয়েকদিনের মধ্যে পাসপোর্ট হয়েও গেল। কিন্তু বিধিবাম, মোম্বাই এর বোমা হামলার কারণে ইন্ডিয়াতে ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া বন্ধ। দেশেই ট্যুর করতে হবে। কোন উপায় নাই। ডিপার্টমেন্ট থেকে ঠিক হল রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন যাবে । ওর একই কথা এই মেয়েগুলোর সাথে এক সপ্তাহ থাকতে হবে। আমি বল্লাম --মন চাইলে যাও। এ রকম সুযোগ আর পাবা না।
সে গেলও সেই ট্যুরে। ট্যুর থেকেই, সে কি গল্প। আমরা আজকে রাঙ্গামাটি যাচ্ছি। সারারাত জার্নি করেছি। খুব সু্ন্দর জায়গাটা। ভাইয়া জান, আমাদের এখানে লুডু ম্যাচ হচ্ছে। আমি এখনও টিকে আছি। ফাইনালে এক স্যারের সাথে খেলা হবে। সবাই বলছে খেলাতে হেরে যেতে ।তাহলে বিষয়টি নিয়ে আরও মজা করা যাবে। কিন্তু সে বোরহান স্যারকে হারিয়ে দিয়ে জিতে গেল। ভাইয়া জান, আমি লুডু খেলায় ফার্স্ট হয়েছি।পুরস্কার হিসাবে পেয়েছি একটি সুটকি মাছ আর লুডু খেলার ঘর। ভাইয়া, সুটকি মাছ তো আর এভাবে আনা যাবে না। তাই এটাকে কাটাকুটা করলাম। এটা করতে করতে আমার জান শেষ।
ওরা সুন্দর ভাবেই ফিরে আসল ঢাকাতে। এখন ওর ভিতরে একি পরিবর্তন! ওকে একবার হলে সিট মেনেজ করে দেয়ার পরও সেই উত্তরা থেকে সে নিয়মিত ক্লাস করে । আর ও কিনা কালকে আমাকে ফোন করে বলছে, আমি হলে থেকে গেলাম। ঝুমু আমাদের রান্না করে খাওয়াবে। কোন চিন্তা করতে আম্মা কে নিষেধ করে দিও।শুধু সেটাই নয়, ও ট্যুর এর পর এক দিনের জন্য ইউনি মিস দেয়নি । সবাই তো অবাক! এই মেয়ে এত নিয়মিত হল কিভাবে!!
কিছু দিন আগে ওরা যাবে সার্ক ট্যুরে ।ভাইয়া আমাকে একটা স্পন্সর মেনেজ করে দাও না। আমি স্পন্সর পাব কোথায়? স্পন্সর না হলে তো যাওয়া যাবে না। তুমি তোমার বন্ধুদের বলে দেখ না, কি করা যায়? আমি আমার চেষ্টা করে গেলাম। কিন্তু স্পন্সর ম্যানেজ করতে পারলাম না। ওকে পাসপোর্ট করতে বল্লাম। কয়েকদিনের মধ্যে পাসপোর্ট হয়েও গেল। কিন্তু বিধিবাম, মোম্বাই এর বোমা হামলার কারণে ইন্ডিয়াতে ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া বন্ধ। দেশেই ট্যুর করতে হবে। কোন উপায় নাই। ডিপার্টমেন্ট থেকে ঠিক হল রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন যাবে । ওর একই কথা এই মেয়েগুলোর সাথে এক সপ্তাহ থাকতে হবে। আমি বল্লাম --মন চাইলে যাও। এ রকম সুযোগ আর পাবা না।
সে গেলও সেই ট্যুরে। ট্যুর থেকেই, সে কি গল্প। আমরা আজকে রাঙ্গামাটি যাচ্ছি। সারারাত জার্নি করেছি। খুব সু্ন্দর জায়গাটা। ভাইয়া জান, আমাদের এখানে লুডু ম্যাচ হচ্ছে। আমি এখনও টিকে আছি। ফাইনালে এক স্যারের সাথে খেলা হবে। সবাই বলছে খেলাতে হেরে যেতে ।তাহলে বিষয়টি নিয়ে আরও মজা করা যাবে। কিন্তু সে বোরহান স্যারকে হারিয়ে দিয়ে জিতে গেল। ভাইয়া জান, আমি লুডু খেলায় ফার্স্ট হয়েছি।পুরস্কার হিসাবে পেয়েছি একটি সুটকি মাছ আর লুডু খেলার ঘর। ভাইয়া, সুটকি মাছ তো আর এভাবে আনা যাবে না। তাই এটাকে কাটাকুটা করলাম। এটা করতে করতে আমার জান শেষ।
ওরা সুন্দর ভাবেই ফিরে আসল ঢাকাতে। এখন ওর ভিতরে একি পরিবর্তন! ওকে একবার হলে সিট মেনেজ করে দেয়ার পরও সেই উত্তরা থেকে সে নিয়মিত ক্লাস করে । আর ও কিনা কালকে আমাকে ফোন করে বলছে, আমি হলে থেকে গেলাম। ঝুমু আমাদের রান্না করে খাওয়াবে। কোন চিন্তা করতে আম্মা কে নিষেধ করে দিও।শুধু সেটাই নয়, ও ট্যুর এর পর এক দিনের জন্য ইউনি মিস দেয়নি । সবাই তো অবাক! এই মেয়ে এত নিয়মিত হল কিভাবে!!
Wednesday, January 21, 2009
হাজার মানুষের মাঝে তুমি আমার বন্ধু
ছেলেটির সাথে আমার পরিচয় বুয়েট কোচিং করার সময়। তখন কোচিং এর কোর্স শেষ দিকে । হাতে প্রিপারেশন এর সময় একদম কম। রেজাল্টও তত ভাল না। হাল্কা পাতলা ধরনের ছেলেটির প্রতি মায়াই হল। তার ডাকনাম টিপু। এরপর থেকে তার সাথে টুকটাক গল্প । কোথা থেকে পাশ করেছ? বাসা কোথায়? আব্বা কি করেন? দেশের বাড়ি এক জায়গায় আর ইন্টারের কলেজ করলে আরেক জায়গায়। আব্বুর বন্ধুর কলেজে পড়াশুনা করেছে। তার পরিবারের খোজখবর ইত্যাদি ইত্যাদি নিলাম। এক সময় কোচিং এর সময় শেষ হয়ে গেল। আর দেখা হয় না সেই বন্ধুটির সাথে।
দীর্ঘ আট বছর পর ইন্টারনেট এ চ্যাট করছি টিপুর সাথে । তার জিমেইল আইডির সাথে টিপু নামটি আছে। তাই তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। আপনি কোচিং করেছেন কোথায়? তারপর কলেজ । ওম্মা, সব দেখি মিলে যাচ্ছে একে একে। কি আশ্চর্য? আপনি তাহলে সেই টিপু । আপনারা ভাইবোন অনেক ছিলেন। ঠিক বলছি না? হা আপনি ঠিক বলেছেন!!
তারপর ব্যক্তিগত আলাপচারিতা। কোথায় থাকেন? কি করেন? ভাইবোনদের অবস্থা কি? ভালই আছে আমার বন্ধু টিপু।
দীর্ঘ আট বছর পর খুজে পাওয়া বন্ধু টিপুকে পেয়ে আমি আসলেই খুশি।
দীর্ঘ আট বছর পর ইন্টারনেট এ চ্যাট করছি টিপুর সাথে । তার জিমেইল আইডির সাথে টিপু নামটি আছে। তাই তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। আপনি কোচিং করেছেন কোথায়? তারপর কলেজ । ওম্মা, সব দেখি মিলে যাচ্ছে একে একে। কি আশ্চর্য? আপনি তাহলে সেই টিপু । আপনারা ভাইবোন অনেক ছিলেন। ঠিক বলছি না? হা আপনি ঠিক বলেছেন!!
তারপর ব্যক্তিগত আলাপচারিতা। কোথায় থাকেন? কি করেন? ভাইবোনদের অবস্থা কি? ভালই আছে আমার বন্ধু টিপু।
দীর্ঘ আট বছর পর খুজে পাওয়া বন্ধু টিপুকে পেয়ে আমি আসলেই খুশি।
Tuesday, November 18, 2008
সাদা পোষাকে আর কালি দিবেন না।
স্কুলে থাকা অবস্থায় আমাদের ক্লাসের এক মেয়ে এক ছেলের প্রেম পড়েছিল। এটা একটা সাধারণ ঘটনা স্কুলের ছেলে মেয়েরা একে অন্যের সাথে প্রেম করবে। কিন্তু এ ঘটনাটা আলোচিত হয়েছিল শুধুমাত্র এ কারণে যে মেয়েটি ছিল বোরকাওয়ালী। রক্ষণশীল পরিবারের হওয়ার পরও মেয়েটি ছেলেটির সাথে প্রেম করত। একবার পিকনিকে তারা একাকিত্বে দেখা করে। আর যা হওয়ার তাই হল মেয়েটির ব্যাপারে আলোচনা আবারো তুঙ্গে। কারণ আর কিছুই নয় মেয়েটি বোরকাওয়ালী অথবা রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। এই মেয়ে কিভাবে একটা ছেলের সাথে প্রেম করে। মেয়েটির ভাইয়ের সাথে ভাল সম্পর্ থাকায় আমাকেও কথা শুনতে হয়েছিল। সাদা জামাতে কালো কালি লাগলে যেমন সবার চোখে লাগে সে ভাবেই এটা সবারই চোখে লাগত ।
আমার পরিচিত আর এক বড় ভাই বিয়ে করল সংগঠন এর এক মেয়েকে। দুইজনেই একই সংগঠনের ফলে তাদের মধ্যে মিল হওয়ার কথা । কিন্তু হল অন্যটা, তাদের ভিতর মিল না হয়ে বিরোধ লেগেই আছে। এমন অবস্থা যেন বিয়ে ভেঙ্গেই যায়। মানসিকতার মিল না হওয়ায় তাদের বিরোধ হচ্ছে।তাদের একমাত্রসন্তানের কারণেই হয়ত তারা আলাদা হতে পারছে না। এটাও অনেক পরিবারের স্বাভাবিক ঘটনা হলেও তারা সংগঠনের লোক হওয়ায় পোষাকে কালি লাগার মত এটাও স্পষ্ট হয়ে সবার চোখে লেগেছে।
আর একটা ঘটনা, আমাদের পাশের বাসার এক ভাই বিয়ে করার জন্য মেয়ে খুজছেন অনেকদিন ধরে। ভাল মেয়ে মানে সংগঠনের মেয়েই খুজছেন তিনি। কিন্তু সব কিছু মিললেও সংগঠনের মেয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। তার ভাইভাবী মিলে অনেকদিন মেয়ে খুজার পর সবদিক দেখে এক মেয়ের সাথে তার বিয়ে ঠিক করলেন। মেয়ের গায়ে হলুদ এর পর্বও শেষ। এবার বাকী শুধু বিয়ে পড়ানোর ।কিন্তু না, তিনি বিয়ের আগের দিন তার বন্ধুর মাধ্যমে কোন এক সংগঠনের মেয়ের খোজ পেলেন। বিয়ের দিন বরযাত্রী তৈরী থাকলেও বরকে পাওয়া গেল না। তিনি তার পছন্দের মেয়ের জন্য এই বিয়ে আর করবেন না। আর মেয়ে পক্ষ মেয়েকে কনে বেশে সাজালেও বিয়ে দিতে পারল না। এটাও বিয়ের ক্ষেত্রেসাধারণ ঘটনা। কিন্তু লোকটি সংগঠনের হওয়ায় বিষয়টি সাদা পোষাকে কালি পড়ার মত দেখা যায় দগদগ করে।
প্লীজ, আপনার আশে পাশে যারা আছে তারা আপনাকে খেয়াল করছে। তারা আপনাকে অন্যরকম চোখে দেখে তাই আপনার ব্যবহারের দিকে খেয়াল রাখুন।
আমার পরিচিত আর এক বড় ভাই বিয়ে করল সংগঠন এর এক মেয়েকে। দুইজনেই একই সংগঠনের ফলে তাদের মধ্যে মিল হওয়ার কথা । কিন্তু হল অন্যটা, তাদের ভিতর মিল না হয়ে বিরোধ লেগেই আছে। এমন অবস্থা যেন বিয়ে ভেঙ্গেই যায়। মানসিকতার মিল না হওয়ায় তাদের বিরোধ হচ্ছে।তাদের একমাত্রসন্তানের কারণেই হয়ত তারা আলাদা হতে পারছে না। এটাও অনেক পরিবারের স্বাভাবিক ঘটনা হলেও তারা সংগঠনের লোক হওয়ায় পোষাকে কালি লাগার মত এটাও স্পষ্ট হয়ে সবার চোখে লেগেছে।
আর একটা ঘটনা, আমাদের পাশের বাসার এক ভাই বিয়ে করার জন্য মেয়ে খুজছেন অনেকদিন ধরে। ভাল মেয়ে মানে সংগঠনের মেয়েই খুজছেন তিনি। কিন্তু সব কিছু মিললেও সংগঠনের মেয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। তার ভাইভাবী মিলে অনেকদিন মেয়ে খুজার পর সবদিক দেখে এক মেয়ের সাথে তার বিয়ে ঠিক করলেন। মেয়ের গায়ে হলুদ এর পর্বও শেষ। এবার বাকী শুধু বিয়ে পড়ানোর ।কিন্তু না, তিনি বিয়ের আগের দিন তার বন্ধুর মাধ্যমে কোন এক সংগঠনের মেয়ের খোজ পেলেন। বিয়ের দিন বরযাত্রী তৈরী থাকলেও বরকে পাওয়া গেল না। তিনি তার পছন্দের মেয়ের জন্য এই বিয়ে আর করবেন না। আর মেয়ে পক্ষ মেয়েকে কনে বেশে সাজালেও বিয়ে দিতে পারল না। এটাও বিয়ের ক্ষেত্রেসাধারণ ঘটনা। কিন্তু লোকটি সংগঠনের হওয়ায় বিষয়টি সাদা পোষাকে কালি পড়ার মত দেখা যায় দগদগ করে।
প্লীজ, আপনার আশে পাশে যারা আছে তারা আপনাকে খেয়াল করছে। তারা আপনাকে অন্যরকম চোখে দেখে তাই আপনার ব্যবহারের দিকে খেয়াল রাখুন।
Wednesday, November 12, 2008
Sunday, September 21, 2008
Friday, August 15, 2008
অজানার পথে যাত্রা....
প্রতিটি দিন এখানে কাটছে এক একটা দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে। কোনদিন কি হয়ে যায় বলা যাচ্ছে না। আওয়ামীলীগ নামের দলটির সাথে আমার কোন শত্রুতা না থাকলেও তারা আমাকে শত্রু মনে করছে। যেকোন সময় বিপদে ফেলে দেয়ার ধান্দায় আছে। জানি না কি হবে?
বিদেশ যাওয়ার জন্যই আমার এই গ্রামে আসা। ভাল ভাবে বেচে থাকার জন্যই ছোট বেলা থেকে রাজধানীতে বড় হলেও এখন গ্রামে আছি। ক্যারিয়ারের বিশাল এক ধাক্কা যাচ্ছে। জানি না , মুক্তি পাব কিনা এই আজাব থেকে। শুধুই ভাবছি কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায়।
আমার এক বন্ধুর কথা বলি। তার অনেকদিন চাকরি হচ্ছিল না। সে মনের দুঃখে আল্লাহর কাছে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়া শুরু করল। এক সময় অনাকাঙ্থিতভাবে তাকে একটি ভাল চাকরির ব্যবস্থা করে দিলেন।
আমার আরেক বোনের কথা বলি। যার কম্পিউটার সাইন্স ভাল লাগছিল না। কম্পিউটার সাইন্স ভাল না লাগার কারণে কম্পিউটার চেঞ্জ করে বায়োলজিতে চলে গেল। যাওয়ার আগে সে ইশতেখারা করেছিল। ফলাফল এখন সে ভাল রেজাল্টের অধিকারী।
আমার বিপদের মুহুর্তগুলোতে শুধু আল্লাহকেই স্মরণ করেছি। জানি না, আল্লাহ কবে আমাকে সেই মুক্তির দিনটি দিবেন। তবে আমার বিশ্বাস আল্লাহ আমাকে ঠকাবেন না।
বিদেশ যাওয়ার জন্যই আমার এই গ্রামে আসা। ভাল ভাবে বেচে থাকার জন্যই ছোট বেলা থেকে রাজধানীতে বড় হলেও এখন গ্রামে আছি। ক্যারিয়ারের বিশাল এক ধাক্কা যাচ্ছে। জানি না , মুক্তি পাব কিনা এই আজাব থেকে। শুধুই ভাবছি কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায়।
আমার এক বন্ধুর কথা বলি। তার অনেকদিন চাকরি হচ্ছিল না। সে মনের দুঃখে আল্লাহর কাছে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়া শুরু করল। এক সময় অনাকাঙ্থিতভাবে তাকে একটি ভাল চাকরির ব্যবস্থা করে দিলেন।
আমার আরেক বোনের কথা বলি। যার কম্পিউটার সাইন্স ভাল লাগছিল না। কম্পিউটার সাইন্স ভাল না লাগার কারণে কম্পিউটার চেঞ্জ করে বায়োলজিতে চলে গেল। যাওয়ার আগে সে ইশতেখারা করেছিল। ফলাফল এখন সে ভাল রেজাল্টের অধিকারী।
আমার বিপদের মুহুর্তগুলোতে শুধু আল্লাহকেই স্মরণ করেছি। জানি না, আল্লাহ কবে আমাকে সেই মুক্তির দিনটি দিবেন। তবে আমার বিশ্বাস আল্লাহ আমাকে ঠকাবেন না।
Subscribe to:
Posts (Atom)